থাইরয়েড কেবল সাধারণ একটি হরমোনের ঘাটতি বা বৃদ্ধি নয় - এটি আপনার শরীরের মেটাবলিজম, এনার্জি লেভেল, ওজন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং রিপ্রোডাক্টিভ হেলথের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০% মানুষ থাইরয়েডের কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫ থেকে ৮ গুণ বেশি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিংহভাগ মানুষই গলার ফোলাভাব, তীব্র ক্লান্তি কিংবা দ্রুত ওজন পরিবর্তনকে সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা মনে করেন। ফলে এ দেশের প্রায় ৫০%-এরও বেশি রোগী উপযুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতার বাইরে থেকে যান।

থাইরয়েড যেকোনো বয়সে হতে পারলেও এটি প্রজননক্ষম বয়সের (১৫ থেকে ৪৫ বছর) নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, শরীরচর্চার অভাব, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত লাইফস্টাইলের কারণে কম বয়সী ও কিশোরীদের মধ্যেও থাইরয়েডের সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

সবার জন্য একই ডায়েট প্ল্যান কাজ করে না

সব থাইরয়েড রোগীর শারীরিক সমস্যা এবং পুষ্টির চাহিদা এক নয়, তাই সবার জন্য একই ডায়েট প্ল্যান কখনোই কাজ করে না।

রোগের ধরন না বুঝে ইন্টারনেট দেখে ডায়েট করলে সমস্যা কমার বদলে আরও জটিল হতে পারে। অনেকেই মনে করেন শুধু ওষুধ খেলেই থাইরয়েড ঠিক হয়ে যাবে, আবার অনেকে ওজন কমাতে গিয়ে ক্র্যাশ ডায়েট করা শুরু করেন। অথচ যারা হাইপারথাইরয়েডের কারণে কম ওজনের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে?

ভুল ডায়েট বা অতিরিক্ত রেস্ট্রিকশন শরীরকে মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ফেলতে পারে। ভুল খাবার খেলে (যেমন: থাইরয়েডের ধরন না বুঝে অতিরিক্ত গোট্রোজেনিক খাবার খাওয়া) হরমোনের ভারসাম্য আরও নষ্ট হতে পারে, ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মেজাজ অতিরিক্ত খিটখিটে হওয়া, চুল পড়া এবং মারাত্মক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই আপনার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট, লক্ষণ ও লাইফস্টাইল বিশ্লেষণ করে একটি সঠিক পুষ্টি পরিকল্পনা করা জরুরি।

থাইরয়েড ও প্রজনন স্বাস্থ্য

থাইরয়েড হরমোন আমাদের ওভারিয়ান ফাংশন, মাসিক চক্র এবং ওভুলেশনকে সরাসরি প্রভাবিত করে। থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতার কারণে অনিয়মিত পিরিয়ড এবং ডিম্বাণুর গুণগত মান কমে গিয়ে গর্ভধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তবে থাইরয়েড থাকা মানেই বন্ধ্যাত্ব নয়, সঠিক মেডিকেল ট্রিটমেন্ট ও সায়েন্টিফিক ডায়েট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হরমোন নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ গর্ভধারণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্পূর্ণ সম্ভব।

ভুল ধারণা ও পুষ্টিবিদের ভূমিকা

আমাদের দেশে থাইরয়েড নিয়ে প্রচুর ভুল ধারণা ছড়িয়ে রয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক বা গুগলের ভিডিও দেখে অন্ধের মতো গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট করা, শাঁক-সবজি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া কিংবা বাজার থেকে র‍্যান্ডম সাপ্লিমেন্ট বা আয়োডিন ট্যাবলেট খাওয়া শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে।

এখানেই একজন সার্টিফাইড ডায়েটিশিয়ান বা পুষ্টিবিদ আপনাকে সঠিক ও নিরাপদ বিজ্ঞানভিত্তিক পথপ্রদর্শন করতে পারেন। আপনার থাইরয়েডের ধরন অনুযায়ী লাইফস্টাইল মডিফিকেশন এবং সুষম ডায়েট চার্ট তৈরি করে হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট প্যাকেজ

জেনারেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট

সময়কাল: ৩০ দিন

বিভিন্ন রোগ অনুযায়ী ১ মাসের ডায়েট পরিকল্পনা ও কাউন্সিলিং।

  • ৩০ দিন পর প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ফলোআপ নিতে হবে।
কাউন্সেলিং ফি
৪০০ টাকা

সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্নের উত্তর

থাইরয়েড থাকলে কি শাক-সবজি বন্ধ করে দিতে হবে?

না। ইউটিউব বা ফেসবুক দেখে শাক-সবজি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া শরীরের ক্ষতি করে। থাইরয়েডের ধরন না বুঝে অতিরিক্ত গোট্রোজেনিক খাবার খাওয়াও সমস্যা বাড়াতে পারে, তাই রিপোর্ট দেখে পরিমাণ ঠিক করা প্রয়োজন।

শুধু ওষুধ খেলেই কি থাইরয়েড ঠিক হয়ে যাবে?

অনেকেই তা মনে করেন, কিন্তু আপনার থাইরয়েডের ধরন অনুযায়ী লাইফস্টাইল মডিফিকেশন এবং সুষম ডায়েট চার্ট তৈরি করে হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট বা আয়োডিন ট্যাবলেট কি নিজে থেকে শুরু করা যায়?

না। অন্ধের মতো গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট করা কিংবা বাজার থেকে র‍্যান্ডম সাপ্লিমেন্ট বা আয়োডিন ট্যাবলেট খাওয়া শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে।

থাইরয়েড থাকলে কি গর্ভধারণ সম্ভব?

থাইরয়েড থাকা মানেই বন্ধ্যাত্ব নয়। সঠিক মেডিকেল ট্রিটমেন্ট ও সায়েন্টিফিক ডায়েট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হরমোন নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ গর্ভধারণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্পূর্ণ সম্ভব।

আপনার থাইরয়েড ম্যানেজমেন্টের এই যাত্রাকে সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর করতে আজই আমাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন।

Facebook-এ মেসেজ দিন (নতুন ট্যাবে খুলবে) সব সেবা